Monday, July 13, 2020
- Advertisement -
Home ভ্রমন সবুজে ঘেরা খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক

সবুজে ঘেরা খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক

সিলেটের নাম নিলেই প্রথমে মাথায় আসে চা বাগানের কথা, হযরত শাহজালাল ও শাহ পরাণের মাজারের কথা, জাফলং এর কথা, বিছানাকান্দি সহ আরো অনেক অপরূপ স্থানের কথা। সিলেটের আকাশ বাতাসেও যেন জুড়ে আছে অপরূপ মাধুর্য। সিলেটের প্রকৃতি যেন অপরূপ রূপের পসরা সাজিয়ে ভ্রমণ পিপাসুদের নিবিড়ভাবে ডাকে। পর্যটন অঞ্চল হিসেবে সিলেটের সুনাম বেশ আগে থেকে। হাওর, বাওর,…

সিলেটের নাম নিলেই প্রথমে মাথায় আসে চা বাগানের কথা, হযরত শাহজালাল ও শাহ পরাণের মাজারের কথা, জাফলং এর কথা, বিছানাকান্দি সহ আরো অনেক অপরূপ স্থানের কথা। সিলেটের আকাশ বাতাসেও যেন জুড়ে আছে অপরূপ মাধুর্য। সিলেটের প্রকৃতি যেন অপরূপ রূপের পসরা সাজিয়ে ভ্রমণ পিপাসুদের নিবিড়ভাবে ডাকে।

পর্যটন অঞ্চল হিসেবে সিলেটের সুনাম বেশ আগে থেকে। হাওর, বাওর, বিল, উদ্যান, বাগান, পাহাড়, ঝর্ণা কী নেই সিলেটে? প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বললেও অত্যুক্তি হবে না। সত্যিই অপরূপ রূপের পসরা সাজিয়ে বসে আছে সিলেটের সবুজ প্রকৃতি। আজ সিলেটের আরেকটি বাগানের কথা বলবো যার নাম খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান। অনেকে একে খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক নামেও চেনে।

ছবিসূত্রঃ মেহেদী জাহান

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান সিলেট জেলায় অবস্থিত। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল ১,৬৭৭ একর জমি নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সিলেট শহর থেকে দশ কিলোমিটার অদূরে খাদিম চৌমোহনা।

খাদিম চৌমোহনা থেকে হাতের ডান দিকে যে রাস্তাটি বয়ে গেছে সে রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে হাঁটলেই পেয়ে যাবেন খাদিমনগর চা বাগান অর্থাৎ খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান। খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ছয়টি চা বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মিশেল।

ছয়টি চা বাগান হলো ছড়াগাঙ্গ, হাবিবনগর, বরজান, কালাগুল, গুলনি ও খাদিমনগর। জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই উদ্যানটির সংরক্ষণের দায়িত্বে আছে ইউএসএইড। দেশের বন, জঙ্গল, পাহাড়, পর্বত, উদ্যান আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ সংরক্ষণ না করলে একদিন পুরো দেশ সম্পদহীন হয়ে পড়বে। তাই সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে এইসব জাতীয় সম্পদ রক্ষা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ছবিসূত্রঃ মেহেদী জাহান

শাহ পরাণের মাজার গেট থেকে সামনের পথ ধরে হেঁটে গেলে চা বাগানের রাস্তা পাওয়া যায়। সবুজ চা বাগানের পথ ধরে হাঁটতে থাকলে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। চারদিকে সবুজের সমারোহ আপনাকে সত্যিই মুগ্ধ করবে। চা বাগানের মাঝে একটি কালভার্ট রয়েছে। কালভার্টের পথ ধরে না এগিয়ে এপাশের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন আরো কিছু চা বাগান। অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি পাবেন চা বাগানের মধ্যে থেকে। পুরো বাগানকে মনে হবে সবুজের চাদরে ঘেরা অপূর্ব মেলবন্ধন।

ছবিসূত্রঃ নাদের আহমেদ রিমন

চা বাগান দেখতে কার না ভালো লাগে? শহরের ব্যস্ততা, নিত্যদিনের কাজের ফাঁকে একটি দিন যদি ঘুরে আসেন সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিমণ্ডল থেকে, আপনার ভালো লাগবে অবশ্যই। শুধু ভালোই লাগবে না, আপনি পাবেন মনের প্রশান্তি। চোখ ও মনের প্রশান্তি আপনার সকল ক্লান্তি নিমেষেই ভুলিয়ে দেবে।

পাহাড়ের পথে পথে সবুজ চা বাগান আর গাছগাছালি সত্যিই চমৎকার। ইচ্ছে হলে খালি পায়ে হাঁটতে পারবেন সরু রাস্তা ধরে। খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা এবং দু’চোখ ভরে অবারিত সবুজ দেখা আপনার ভ্রমণকে আরো আনন্দময় করে তুলবে। খাদিমনগর চা বাগান থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ পেরুলেই দেখতে পাবেন খাদিমনগর রেইনফরেস্ট। রেইনফরেস্টটি ১৯৭৩ একর পাহাড় ও প্রাকৃতিক বনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

ছবিসূত্রঃ আদার ব্যাপারী

খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্কে হাঁটার জন্য দুটো ট্রেইল আছে। একটি ট্রেইলে হাঁটতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট ও অন্যটিতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। বনবিভাগের বিট অফিসের সামনের মানচিত্রে সকল দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। আপনি ট্রেইল ধরে হাঁটতে চাইলে ওখানকার গাইড সঙ্গে নেবেন অবশ্যই।

বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে চাইলে আপনার পছন্দের তালিকায় খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ককে রাখতে পারেন। চায়ের ভুবন দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের স্বাদ পেয়ে যাবেন এখানে। এছাড়া ট্রেইল ধরে হাঁটতেও পারবেন। জানা-অজানা অসংখ্য গাছের দেখাও মিলবে এখানে। খাদিমনগরে অসংখ্য গাছ রয়েছে।

অর্জুন, শিমুল, সেগুন, চম্পা, গর্জন, চিকরাশি, মেহগনি, চন্দন, জারুল, চাপালিশ, আম, জাম, কাঁঠাল, কাউ, লটকন, পারুয়া, মিনজিরি, একাশিয়া, মান্দা, বহেরা, আমলকি, হরিতকীসহ অসংখ্য গাছ রয়েছে খাদিমনগরে।

ছবিসূত্রঃ নোমান আল মোক্তাদির

খাদিমনগরে শুধু উদ্ভিদ আছে তা নয়, রয়েছে অনেক প্রাণীও। এছাড়াও পশুপাখির দেখা পাওয়া যায় এখানে। রেইনফরেস্টে হাঁটতে হাঁটতে পাখির কলকাকলিতে মুগ্ধ হবেন আপনি। পাখির মধ্যে রয়েছে কোকিল, ময়না, শ্যামা, দোয়েল, কাঠঠোকরা, মাছরাঙ্গা, বক, টুনটুনি, চিল, ঘুঘু, বুলবুলি, শালিক, বনমোরগ ইত্যাদি।

ছবিসূত্রঃ নোমান আল মোক্তাদির

প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিষধর সাপ, শেয়াল, বেজি, কাঠবিড়ালি, হনুমান, বানর, ইঁদুর, মেছোবাঘ, অজগর, দারাইশ, উলুপুরা ও চন্দবুড়া।

খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্কে যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে, ট্রেনে, বিমানে সিলেটে যাওয়া যায়।

বাসে সিলেট

ঢাকা থেকে প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস যায়। ঢাকার ফকিরাপুল, মহাখালি, সায়েদাবাদ থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গ্রীনলাইন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, এনা পরিবহন, এস আলম পরিবহন। এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছাড়ে। এগুলো টঙ্গী-ঘোড়াশাল হয়ে ঐ পথে সিলেট যায়। এসি ও ননএসি বাসও রয়েছে। এসি বাসে গেলে ভাড়া বাবদ খরচ করতে হবে ৮০০-১,১০০ টাকা। তবে ননএসি বাসে গেলে খরচ হবে ৪০০-৫০০ টাকা।

ট্রেনে সিলেট

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আন্তনগর ট্রেন পারাবাত এক্সপ্রেস ছাড়ে। তবে এটি মঙ্গলবারে বন্ধ থাকে। কমলাপুর থেকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে। উপবন এক্সপ্রেস ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। বুধবার উপবন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ থাকে। ট্রেনের ভাড়ারও সুবিধা অনুযায়ী তারতম্য হয়। ট্রেনে সিলেট গেলে ভাড়া বাবদ ব্যয় হবে ১৫০- ১,০০০ টাকা। সময় লাগবে ৫-৭ ঘণ্টা।

বিমানে সিলেট

বিমানে সিলেট গেলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে ভাড়া খরচ হবে বেশি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে যাতায়াত করে ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, নভো এয়ার ও বিমান বাংলাদেশ।
সিলেটের যেকোনো স্থান থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটরিকশায় চড়ে খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্কে যেতে পারবেন।

যেথায় থাকবেন

সিলেটে থাকার মতো অনেক আবাসিক হোটেল ও রেস্টহাউজ রয়েছে। এসব রেস্টহাউজের মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটিতে থাকতে পারবেন। হিল টাউন, দরগা, কায়কোবাদ, সুরমা, গুলশান হ্লো পরিচিত হোটেল। এসব হোটেলে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারবেন

- Advertisment -

সর্বশেষ