Thursday, October 22, 2020
- Advertisement -
Home বিবিধ যেসব কারনে ১ সাপ্তাহ পর সমাহিত করা হবে এন্ড্রু কিশোরকে

যেসব কারনে ১ সাপ্তাহ পর সমাহিত করা হবে এন্ড্রু কিশোরকে

দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাজশাহীর মহিষবাতানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান তিনি। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

গেল বছর বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর যান তিনি। সেখানে দেশটির জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় শিল্পীর।

শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে গত মাসের ১১ জুন নিজ দেশে ফিরেই পরের দিন রাজশাহীতে যান তিনি। সেখানে বোন ডা. শিখা বিশ্বাস ও বোনজামাই ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর সেখানেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর।

বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ। মা রাজশাহীর বুলনপুর মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা মিনু বাড়ৈ। মায়ের কাছেই তার পড়াশোনায় হাতেখড়ি। রাজশাহীতে কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল। মা মিনু ছিলেন সংগীত অনুরাগী মানুষ। তার প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমার।

সেই শিল্পীর নামে নিজের সদ্যোজাত সন্তানের নাম রাখলেন ‘কিশোর’। ধীরে ধীরে ছেলেটি বড় হয়ে উঠলো। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে সে সংগীতাঙ্গনেই পা রাখলো। তারপর একদিন স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে সেই ছেলে তার দেশে কিশোর কুমারের মতোই বিখ্যাত ও কিংবদন্তি হয়ে উঠলো।

তিনি আর কেউ নন, সদ্য প্রয়াত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। যার সংগীতে প্রথম পাঠ শুরু রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। সত্তর দশকের শেষ দিকে প্লেব্যাকের জগতে পা রাখার পর থেকে বাংলা, হিন্দিসহ বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ভালোবাসার নন্দিত সিংহাসনে।

তার সার্টিফিকেট নাম কিন্তু এন্ড্রু কিশোর ছিল না। ছিল এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। গান করতে এসে বাবা-মায়ের দেয়া পারিবারিক সেই নাম কে’টে ছেটে নিয়েছিলেন নিজের মতো করে। সেই গল্প এক সাক্ষাৎকারে শুনিয়ে গেছেন তিনি নিজেই।

তার ভাষ্যে, যখন ফিল্মে গান শুরু করলাম একদিন দেওয়ান নজরুল নামের একজন পরিচালক বললেন, ‘আচ্ছা এন্ড্রু, তোমার এত বড় একটা নাম। কমার্শিয়ালি কিন্তু এ নামের কোনো ভ্যালু নেই! এই নামটা শুট করতেই তো ১০ রিল ফিল্ম বেশি লাগবে।

তাছাড়া পৃথিবীতে অধিকাংশ তারকাদের নাম দুই শব্দের হয়। যেমন এলভিস প্রিসলি, লতা মুঙ্গেশকার, উত্তম কুমার, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার সবারই দুই শব্দের নাম। খামোখা তুমি এই চার শব্দের নাম নিয়ে কেন ঘুরছ? লোকে তো মনে রাখতে পারবে না।’

পরিচালকের সেই কথাগুলো এন্ড্রু কিশোরের মনে দাগ কে’টেছিল। তিনি সিদ্ধান্ত নেন নাম ছোট করার। কিন্তু বিপদ ঘটলো চার শব্দের কোন শব্দ ফেলবেন আর কোন শব্দটা রাখবেন সে নিয়ে। ওই সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিশোর যেহেতু মায়ের দেয়া ডাকনাম, সেটা তো রাখতেই হবে।

আবার কুমার রাখলে কিশোর কুমারের সঙ্গে মিলে যাবে। ঝামেলা হয়ে যাবে। ক্রিশ্চিয়ানিটির কারণে ‘এন্ড্রু’টাও রাখতেই হবে। তাহলে পৈতৃক ‘বাড়ৈ’ টাইটেলটা ফেলে দিই। এটা ভেবে আমি রাজশাহীতে বাবাকে গিয়ে ব্যাপারটা জানালাম। এ কথা শুনে বাবা খুবই দুঃখ পেলেন।

বললেন, ‘বাপদাদার টাইটেলটা ফেলে দিবি?’ আমি বললাম, ‘না বাবা, ফেলে দেওয়ার ব্যাপার না। নিজের প্রফেশনের প্রয়োজনই এটা করতে হবে। সার্টিফিকেটে তো সবই থাকছে।’ সে থেকে কুমার আর বাড়ৈ ফেলে দিয়ে হয়ে গেলাম ‘এন্ড্রু কিশোর’।’

বর্তমানে এন্ড্রু কিশোরের ম’রদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে শিল্পীর দুই সন্তান দেশে ফিরলে আগামী ১৫ জুলাই মায়ের পাশে সমাহিত করা হবে এ কিংবদন্তিকে। বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত শিল্পীর বোনজামাই ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস।

বিপুল বিশ্বাস জানিয়েছেন, এন্ড্রু কিশোরের দুই সন্তান অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। বুধবারে ছেলে সপ্তক দেশে ফিরবেন এবং আগামী ১৪ জুলাই আসবেন মেয়ে সঙ্গা। তারা দু’জন দেশে ফেরার পরদিনই ১৫ জুলাই সকালে ধ’র্মীয় রীতিনীতি মেনে সমাহিত করার কাজ শুরু করা হবে।

তিনি এও বলেন, যদি প্রশা’সনের কাছে অনুমতি পাই, তাহলে রাজশাহী বিশ্বিবদ্যালয়ের শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। এরপর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে বলেও জানান শিল্পীর বোনজামাই ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বশেষ