Tuesday, December 1, 2020
- Advertisement -
Home বলিউড বলিউড সেক্স সিম্বল সুস্মিতা সেনের ‘দুর্ধর্ষ কামব্যাক’

বলিউড সেক্স সিম্বল সুস্মিতা সেনের ‘দুর্ধর্ষ কামব্যাক’

আনিফা আরশি:

বিশ্বব্যাপী বিনোদনের জনপ্রিয় নতুন প্ল্যাটফর্ম এখন ওটিটি (ওভার দ্য টপ)। ইন্টারনেটের সুবিধা ব্যাবহার করে ঘরে বসেই এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সিরিজ, সিনেমা দেখার সুযোগ হাতের মুঠোয়। ভারতীয় বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।আর করোনার থাবা থেকে বাচার জন্য সারাবিশ্বেই এখন কমবেশি লকডাউন পালন করা হচ্ছে। যার কারনে মানুষ এখন ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন বেশি। আর এই সময় কাটানোর একটি উপকরন হিসেবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে রিলিজ পাওয়া নানা সিরিজ, মুভি গোগ্রাসে গিলছেন সবাই। নেটফ্লিক্স, হটস্টার, আমাজন, ডিজনি, হইচই এসব নাম এখন সারাবিশ্বের বিনোদনপ্রেমী মানুষের অতি পরিচিত।

ভারতীয় বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির এই নতুন মাধ্যমে ইতিমধ্যে কনটেন্ট, মেকিং, এবং কিছু দক্ষ পারফরম্যান্স দিয়ে বেশকিছু সিরিজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বেশকিছু প্রবীন-নবীন বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও চুটিয়ে কাজ করছেন এখন এই প্ল্যাটফর্মে। তাদের অভিনয় দক্ষতাও নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর আবারো দেখা মিললো সাবেক মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেনের। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একটা সময় জনপ্রিয়তা পেলেও প্রায় দশ বছর ধরেই রুপালি পর্দা থেকে দুরে আছেন এই জনপ্রিয় এবং আলোচিত অভিনেত্রী। মাঝে ২০১৫ সালে সৃজিত মুখার্জির ‘নির্বাক’ সিনেমায় দেখা মিলেছিলো সুস্মিতার।নিজের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপন, কিছু ব্র‍্যান্ডের এম্বাসাডর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে দত্তক নেয়া দুই কন্যা, প্রেমিক এবং বাবা-মা কে নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমাঝেই নিজের জীবনের কিছু মূহুর্তের ছবিও ভক্তদের সাথে শেয়ার করেন সাবেক এই মিস ইন্ডিয়া।‘আরিয়া’ নামক ওয়েব সিরিজের সারপ্রাইজ এলিমেন্ট কিন্তু সুস্মিতা সেন। দীর্ঘ বিরতির পর লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরলেন তিনি। অথচ সিরিজ দেখার সময় বোঝার উপায় নেই যে, উনি মাঝে দশ বছরের লম্বা একটা বিরতি নিয়েছিলেন। তার আবেদন এবং চরিত্রে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা যে কোনও অংশে কমেনি, তা বুঝিয়ে দিলেন ‘আরিয়া’র অভিনয় দিয়েই।বলিউড পুরোপুরিভাবে সুস্মিতা সেনকে কাজে লাগায়নি – একথা আবার প্রমাণ করেছে ‘আরিয়া’। আগের চেয়ে পর্দায় তিনি এখন আরও পরিণত। সদ্য স্বামী হারানো একজন মায়ের আবেগ, সন্তানদের জন্য ভালোবাসার অনুভূতি, স্বামী হত্যার প্রতিশোধস্পৃহা, এ যেন নতুন এক সুস্মিতা। ‘দুর্ধর্ষ কামব্যাক’ একেই বলা যায় মনে হয়। ওয়েব সিরিজের এই ময়দানে প্রথমবার পা দিয়েই দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিলেন সুস্মিতা।

ওয়েব সিরিজ ‘আরিয়া’র কাজ শেষ হবার পরেই ঘোষনা দিয়েছিলেন তিনি যে, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে শিগগিরই পর্দায় ফিরতে চলেছেন। অবশেষে সুস্মিতা সেন কথা রাখলেন। ডিজ়নি প্লাস হটস্টারে সুস্মিতা অভিনীত সিরিজ় ‘আরিয়া’র ট্রেলার মুক্তি পাবার পরেই মোটামুটি আলোচনায় এসেছিলো।এতো বছর পর তার কামব্যাক নিয়ে ভক্তদের মাঝেও একটি আগ্রহ কাজ করেছিলো। টুইটার এবং ইন্সট্রাগ্রামের ক্যাপশনে ট্রেলার শেয়ার করার সাথে সাথে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনে বুলায়া অওর হাম চালে আয়ে’। আসলেই তিনি ফিরলেন এবং তার এই ফেরাটা তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলাটাও ভুল হবেনা। রিলিজের পরেই প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন সুস্মিতা। ‘আরিয়া’ সিরিজটি হতাশ করেনি কাউকে।

চুয়াল্লিশ বছর বয়সে অভিনেত্রী হিসেবে সুস্মিতা যেনো আরো বেশি পরিণত। আরো বেশি দীপ্তময়। নিজের চুয়াল্লিশ বছর বয়সকে কিভাবে শুধু সংখ্যাতেই আটকে রেখেছেন প্রথম দৃশ্যেই যেনো সেই বার্তা দেন তিনি। পুরুষ প্রভাবিত সিরিজ বা সিনেমার জগতে নারী চরিত্রও সমান ভাবে পারদর্শীতার সাথে কিভাবে পাল্লা দেয় তার সাক্ষী যেনো আরিয়া ওরফে সুস্মিতা সেন। এই সাফল্য প্রমান করে যে, অল্প অল্প করে বদলে যাওয়া বলিউডের মতোই ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও একটা গোটা সিরিজকে নিজ কাঁধে টেনে নিয়ে যেতে নারীরাও পিছিয়ে নেই।গত ১৯ জুন শুক্রবার ডিজনি+হটস্টার তাদের নিজস্ব টিভি সিরিজ আরিয়া-র মুক্তি দেয়। এটি জনপ্রিয় ডাচ শো ‘পেনোজা’র ভারতীয় রিমেক। এর আগেও ডিজনি+হটস্টার এমন রিমেক বানিয়েছে। এতে দুটো সুবিধে আছে। কপি করার দোষে দুষ্ট হতে হয়না পাশাপাশি একটা স্ট্রং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে যায়। সন্দীপ শ্রীবাস্তবের লেখা এই ভারতীয় সংস্করন দক্ষ নির্মাতা রাম মাধবনের পরিচালনায় নতুন প্রাণ পেয়েছে। পেনোজার গল্পকে নিপুণতার সাথে সম্পৃক্ত করেছে ভারতের রাজস্থানের রাজপুত পরিবারের গল্পের সাথে।

আরিয়া মূলত ফ্যামিলি ড্রামা ঘরানার একটি সিরিজ। তবে গল্পের শাখা ছড়িয়ে পড়ে ক্রাইম জগতে। রাজস্থানের হাই প্রোফাইল ড্রাগ সিন্ডিকেট, দুই মাদক মাফিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ, খুনোখুনি, নিজের পরিবারের প্রতি বিশ্বাস হারানো এবং বিশ্বাসঘাতকতা, যাবতীয় রোমাঞ্চকর উপকরণই মজুত ‘আরিয়া’য়। সুস্মিতা সেনের চরিত্রের মধ্য দিয়ে গল্পে এই প্রত্যেকটি প্লটই দেখানো হয়েছে।

পরিস্থিতির শিকারে এক আধুনিক গৃহবধূর ‘মাফিয়া ডন’ হয়ে ওঠার গল্প ‘আরিয়া’। বাঘিনী যেভাবে নিজের সন্তানদের রক্ষার্থে চারপাশে গোটা দুনিয়ার সঙ্গে লড়তেও পিছপা হয় না, আরিয়ার গল্পটিও ঠিক সেরকমই। সিরিজের গল্প বাঁক নেয় ঠিক সেখানেই। পরিবারের তাগিদেই নিজ সন্তানদের সুরক্ষা দিতে গিয়েই একজন গৃহবধু তথা একজন মা হয়ে ওঠে ক্রিমিনাল। গল্পের শাখা নানান ভাবে ছড়িয়ে গেলেও তা গুটিয়ে নেবার যে মুন্সিয়ানা পরিচালক দেখিয়েছেন তা এককথায় অসাধারণ।মোট নয়টা লম্বা এপিসোডের ভার কাঁধে নিয়ে একাই লড়েছেন সুস্মিতা সেন। কাধে কাধ মিলিয়ে তার সাথে ছিলেন সিকেন্দর খের, জয়ন্ত কৃপালিনী, নমিত দাস, বিকাশ কুমার, মণীশ চৌধুরি ও বলিউডের একসময়ের আলোচিত অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিং। অমিত কুমারের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘বাড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায়’ গানটিকেই পরিচালক এই সিরিজে আবহ সংগীতের মতো ব্যবহার করেছে। যেটি সিরিজের মেকিংয়ের সাথে মানিয়ে গেছে পুরোপুরি। এমনিতেই এই শ্রুতিমধুর গানটির আলাদা একটা নস্টালজিয়া তো আছেই। এছাড়াও সিরিজে ব্যবহৃত পুরনো দিনের কিছু গানের ব্যবহার আলাদা একটা অদ্ভুত ছন্দ তৈরি করেছে।

পুরো সিরিজে পরিচালক প্রতিটি চরিত্রকে নিয়েই কাজ করেছেন। কিছু কিছু দৃশ্য যেমন রোমাঞ্চ জাগায় তেমন ভাবায় বারবার। মাফিয়ার চরিত্রে মণীশ চৌধুরি দারুন কাজ করেছেন। তার প্রধান সহযোগী সম্পতের চরিত্রে বিশ্বজিত প্রধান ও অনবদ্য অভিনয় উপহার দিয়েছেন। এসিপি খান ওরফে বিকাশ কুমার পুরো ব্যালেন্সড ছিলেন। অন্যভাবে বলা যায় বলিউডের অন্ধ গলিতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া সহ অভিনেতাদের খুঁজে এনে পরিচালক আশা দেখিয়েছে নতুন ও পুরনো অভিনেতা অভিনেত্রীদের।

তবে সিরিজ এতোটা না টানলেও মনে হয় আরো ভালো হতো। নয়টি এপিসোড পূর্ণতা পায় সাত ঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিটে। দৈর্ঘ্য বড় হওয়া অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না টিভি সিরিজে যদি তার বুনোট ঢিলে না হয়। আরিয়াতে বহু জায়গা ছিল যা বাদ দিলে গল্পে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ত না। বরং তা আরো বেশি জমজমাট হতো। তবে এই দৈর্ঘ্য অভিনয় দক্ষতা আর মেকিংয়ের কারণে অতটা খারাপ লাগবেনা।

তবে শুরুতে, শেষে এবং ঘুরেফিরে বারবার আসবে সুস্মিতা সেন। গৃহবধুর চরিত্র থেকে একটু একটু করে নিজেকে ভেঙে অন্য একটি চরিত্রে স্থাপন করার কাজে আরিয়া চরিত্রে পুরো মার্কস পাবেন তিনি। সুস্মিতা সেনের ঈর্শ্বনীয় সৌন্দর্য, তার চাহনী, শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সুস্মিতা এখনো ফুরিয়ে যাননি। নিজের ব্যক্তিত্ব, এবং বয়সের সাথে যায় এমন চরিত্র পেলে অসামান্য পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন তিনি। তাকে আবার এরকম ভাবে ফিরে পাওয়ার জন্য আপাতত অপেক্ষা আরিয়া’র তৃতীয় সিজনের জন্য।

সুত্র/অলিগলি.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বশেষ

ঢাকায় ফিরলো ‘আয়না’ চলচ্চিত্রের টিম

1
আনিফা আরশি: গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবরের নতুন সিনেমা ‘আয়না’। গত ১৪ই অক্টোবর থেকে ধামরাই শুরু হয়েছিলো শুটিং। মোহনা মুভিজ এর ব্যানারে...