Saturday, October 24, 2020
- Advertisement -
Home ঢালিউড প্রমাণিত হলো শিল্পীদের দুঃসময়ে শিল্পী সমিতি ছাড়া কেউ পাশে থাকে না:খালেদা আক্তার...

প্রমাণিত হলো শিল্পীদের দুঃসময়ে শিল্পী সমিতি ছাড়া কেউ পাশে থাকে না:খালেদা আক্তার কল্পনা

আনিফা আরশি:

বড় ও ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী প্রায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে করেছেন শতাধিক নাটকেও অভিনয়। দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও এবং নাটকে অভিনয় করে সমাদৃত এ অভিনেত্রী। দর্শকের কাছে মা চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবেই তিনি বেশ পরিচিত। অবশ্য জীবন সায়াহ্নে এসে গুণী এ অভিনেত্রীকে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে বেকারও থাকতে হয়েছিল। মাঝে কাজের ফেরার কথা থাকলেও অচেনা করোনা ভাইরাসে সব কিছু পাল্টে দেয়। করোনার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বেকার হয়ে ঘরবন্দি তিনি।

চিত্রজগত প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে জানান, করোনার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বেকার সময় পার করছি। টুকটাক কাজের সুযোগ থাকলেও করোনার কারণে বেকার হয়ে গেছি। চলতেও অসুবিধা হচ্ছে। এ নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে কিভাবে সামনের দিনগুলো পার করব। মাঝে কয়েকজন কাজের জন্য যোগোযোগ করেছিল কিন্তু কাজে নামার সাহস পাচ্ছি না। নিজের লেখা বেশ কিছু গল্প রেডি আছে তবে কেউ নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে ভালো নেই।

এ অভিনত্রেী আরও জানান, একমাত্র শিল্পী সমিতি ছাড়া করোনার এ সময়ে চলচ্চিত্রপাড়ার কেউ খোঁজ নেয়নি। করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন। বেশ কয়েকবার উপহার সামগ্রীও পাঠিয়েছেন। এছাড়া কেউ একদিন ফোন দিয়েও জানতে চায়নি আমি কেমন আছি।করোনা মহামারীতে এটাই প্রমাণিত হলো শিল্পীদের দুঃসময়ে শিল্পী সমিতি ছাড়া কেউ পাশে থাকে না।

খালেদা আক্তার কল্পনা এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৪ সাল থেকে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করলেও তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে মতিন রহমানের ‘রাধাকৃষ্ণ’। অভিনয় আসার পূর্বে কল্পনার পেশা ছিলো শিক্ষকতা।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে তিন কন্যা (১৯৮৫), ঢাকা ৮৬ (১৯৮৬), সন্ধি (১৯৮৭), দায়ী কে? (১৯৮৭), আগমন (১৯৮৮), বীর পুরুষ (১৯৮৮), জিনের বাদশা (১৯৮৯), ববি (১৯৯০), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), সন্ত্রাস (১৯৯১), লক্ষ্মীর সংসার (১৯৯২), চাকর (১৯৯২), অন্ধ প্রেম (১৯৯৩), দোলা (১৯৯৩), কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩), বাবার আদেশ (১৯৯৫), পালাবি কোথায় (১৯৯৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), লাল বাদশা (১৯৯৯), শিকারী (২০০১), বিচ্চু বাহিনী (২০০১), জুয়াড়ী (২০০২), ভালবাসা কারে কয় (২০০২), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), লাল সবুজ (২০০৫), দাপট (২০০৬), স্বামীর সংসার (২০০৭), অস্ত্রধারী রানা (২০০৭), বউয়ের জ্বালা (২০০৭), এ চোখে শুধু তুমি (২০০৮), ভালবাসার দুশমন (২০০৮), মেম সাহেব (২০০৮), আমার প্রাণের প্রিয়া (২০০৯), স্বামী নিয়ে যুদ্ধ (২০০৮), পৃথিবী টাকার গোলাম (২০০৯), সূর্যের মা জমিদার (২০১০), ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০), গহীনে শব্দ (২০১০), অস্ত্র ছাড়ো কলম ধরো (২০১১), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১), তোমার সুখই আমার সুখ (২০১২), ডন নাম্বার ওয়ান (২০১২), বাংলাদেশী (২০১২), তোমারই আছি তোমারই থাকব (২০১৩), ৭১ এর গেরিলা (২০১৩), তুই শুধু আমার (২০১৪)। ১৯৮৯ সালে ‘জিনের বাদশা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বশেষ