Monday, September 21, 2020
- Advertisement -
Home বিবিধ  নিশ্চুপ ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক মূসা বিন শমশের এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ধনকুবের

 নিশ্চুপ ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক মূসা বিন শমশের এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ধনকুবের

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এখন শুধু আতঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই ছড়িয়ে পরেছে ব্যাপকহারে। জ্যামিতিক সংখ্যায় ছড়াচ্ছে মানুষ থেকে মানুষে। ক্রমই এই ভাইরাসে আক্রান্তর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি অসচ্ছল মানুষেরা।এই মহামারিতে অসহায় হয়ে পড়েছে দিন আনে দিন খায় মানুষগুলো সহ সমস্ত নিন্মবিত্ত, নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষগুলো। অসহায়দের সহযোগিতায় সরকারের ফান্ডে টাকা জমা দিয়েছেন সরকারি,বেসরকারি, ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশ ধনকুবের মূসা বিন শমশের এর দেখা কোথাও মিললো না।অথচ এই মহামারিতেই তার সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন ছিলো।অন্তত কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতেন তিনি।

ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। এ দিকে লন্ডন টেলিগ্রাফ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে। ১৯৯৬ সালে লন্ডন টেলিগ্রাফ মূসা বিন শমশেরের ওপর অভূতপূর্ব এক প্র”ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ভেতরের আট পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল অসংখ্য প্রতিবেদন। এশিয়ার কোন মহান ব্যাক্তির উপরেও টেলিগ্রাফ এত বড় প্রতিবেদন কখনো প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদনে সব অবিশ্বাস্য বহু কাহিনী প্রকাশ করে যা বিশ্ববাসী জানতেন না। একথা অনস্বীকার্য লন্ডন টেলিগ্রাফ এবং ফোর্বস দুটি পত্রিকাই বিশ্বের শীর্ষ ও অভিজাত পত্রিকা।

কোন ধনকূবেরের প্রকৃত অথের্র পরিমাণ উদঘাটন এক অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ফোর্বস বিশ্বের সেরা ধনকূবেরদের অর্থের পরিমাণ উদঘাটনে নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজাত পত্রিকাটি তাদের এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে শিল্পে রূপান্তরিত করে ফেলেছে। তারা বহুলাংশে সফল হলেও অনেক প্রকৃত ধনকূবেরই এই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। লন্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকা ড. মূসাকে নিয়ে প্রচ্ছদসহ যে আট পাতার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। পত্রিকাটি ধনকূবের ও বিশিষ্ট এবং দৃর্ধর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ি মূসাকে নিয়ে এত সব অবিশ্বাস্য প্রতিবেদন ছেপেছিল যা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল।

ড. মূসাকে নিয়ে টেলিগ্রাফের ওই বিশাল প্রতিদেনের প্রেক্ষিতে লন্ডন টেলিগ্রাফের বিশেষ প্রতিনিধি ফোর্বস এর সম্পাদককে টেলিফোনে প্রশ্ন করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনকূবের ড. মূসার নাম তাদের তালিকায় নেই এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফোর্বস সম্পাদক বলেছিলেন, বহু ধনী তাদের তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। সম্পাদক ষ্টীভ ফোর্বস বলেন, তিনি আমাদের তালিকায় না থাকার অর্থ এই নয় যে, ড. মূসা ধনকূবের নন। বহু রক্ষণশীল ধনকূবের তাদের সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশ করতে চান না। ড. মূসা বিন শমশের তাদের মধ্যে একজন। কিš‘ আমরা তার সম্পর্কে সবকিছুর ব্যাপারে অবগত আছি এবং ছিলাম। ড. মূসার ব্যবসায়ীক পার্টনার অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাসোগীও তার সম্পদের কথা গোপন করতেন, কাউকে বলতে চাইতেন না।

উল্লেখ্য ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায় ড. মূসাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল বহু আগে সম্ভবত ১৯৭৯ সালে। সেখানে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে তরুন মাল্টিবিলিয়নিয়ার বলে অভিহিত করা হয়েছিল। সেখানে মূসাকে প্রাচ্যের ষ্টাইলিষ্ট বলে অভিহিত করা হয়েছিল। আর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বর্তমান সম্পাদকের পিতার আমলেই। আমরা জেনেছি, স্বর্গীয় ম্যালকম ফোর্বসের সাথে ড. মূসার সম্পর্ক প্রায় কুটুম্বিতায় পরিণত হয়েছিল। বিশ্বের সেরা ধনকূবের ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা যে অনুসন্ধান চালাচ্ছি তা এখনো চলমান। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বিশ্ব মিডিয়ায় ড. মূসার যে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় তা প্রকৃত হিসেব নয়। এই হিসেব অসম্পূর্ণ এবং তিনি আরো অনেক বেশি অর্থের অধিকারী।

অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রচলিত আইনের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। পৃথিবীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার ভিত্তিতে যে ব্যবসাটি পরিচালিত হয় তা হল অস্ত্র ব্যবসা। তাদের ব্যবসা শতভাগ বৈধ কিন্তু তারা তাদের অস্ত্র ব্যবসাকে অতন্ত্য গোপন ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত করে। কারণ কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী যখন কোন সরকারের সামরিক বিভাগের সাথে চুক্তি করে তখন তারা অত্যন্ত সংগোপনে নতুন একটা কোম্পানী তৈরী করে অবশোর আইল্যান্ডে। যখন সমস্ত সরবরাহ শেষ হয় তখন সমস্ত ব্যবসার অর্থ পরিশোধিত হয় সেই দেশের অর্থ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সমস্ত অর্থ চলে যায় সেই কোম্পানীর একাউন্টে। তার পর ঐ কোম্পানীটির আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। তারা প্রতিটা ব্যবসার জন্যই নতুন নতুন কোম্পানী খুলে। যখন ব্যবসা শেষ হয় তখন ঐ কোম্পানী গুলি চলে যায় অন্ধকারে। স্বভাবতই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা হয়ে থাকে। এবং কেউ জানতে পারে না কোন কোম্পানী কত বিলিয়ন ডলার এর বিল পেল সেটা আর কেউই উৎঘাটন করতে পারে না। এই হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় কৌশল।

এদিকে সুইস ব্যাংকের আইন এত কড়া যে কোন কর্মচারী যদি গ্রাহকের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে তাকে অনিবার্য ভাবেই জেলে যেতে হবে। মূসা বিন শমশেরের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে সুইজারল্যান্ডে আমরা কয়েক বছর ধরে কাজ করছি। আমরা ভাগ্যবান যে বছর কয়েক আগে আমরা তা উৎঘাটনে সমর্থ হয়েছি। সদ্য মৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাসোগীর এক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমরা ড. মূসার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ জানতে পারি। খাসোগীর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি মূসার মোট সম্পদেও পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা সুইস ব্যাংকে জব্দ। আদনান খাসোগী বলেন, এটা মূসার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক একটি ষড়যন্ত্র। কাজটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল কিন্তু এখন আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি মূসা বিন শমশের এশিয়ার সবচেয়ে বড় ধনকূবের।

আমাদের প্রশ্নের সমাধানটা হয়েছিল ২০১৭ সালে যখন আমরা আদনান খাসোগীর সাক্ষাৎকার নিতে সমর্থ হই। মূসার পার্টনার আদনান খাসোগী আমাদের জানিয়েছিলেন, মূসার নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তীতে খাসোগী মারা যান। তিনি তার পার্টনার ড. মূসাকে ২০ বিলিয়ন ইউরো উইল করে যান তার আইনজীবির মাধ্যমে। যে টাকাটা আদনান খাসোগীর কাছে গচ্ছিত ছিল। এখন সব মিলিয়ে মূসার মোট সম্পদের পরিমাণ দাড়ায় ৮২ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং এটা বাস্তব সত্য ও প্রমানীত যে, মূসা বিন শমশেরেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ধনী। শুধু তাই নয় তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বশেষ