Thursday, October 22, 2020
- Advertisement -
Home টেলিভিশন নাটকীয় ঈদ

নাটকীয় ঈদ

বিনোদন প্রতিবেদক : বিশ্বজুড়ে সকলের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। অদৃশ্য এই ভাইরাস পাল্টে দিয়েছে জনজীবন থেকে শুরু করে বিনোদনের সকল স্তর। কাল ঈদ – উল ফিতর। কিন্তু করোনাকালীন ঈদের আগে শূটিং হাউজগুলোতে ছিল না শূটিংয়ের ব্যস্ততা। ছিল না লাইট – ক্যামেরা – এ্যাকশনের ঝলকানি।

শূটিং বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন নাটকের সাঙ্গে জড়িত পাঁচ হাজারের মতো পরিবার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এবার প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য থেকে বঞ্চিত হবে ঈদ নাটক সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে নাটকের কাজে ঘুম হারাম হয়ে যায় শিল্পীদের। কাজের চাপে চাঁদ রাত পর্যন্ত চলে শূটিং। তবে এবার আর সেই চিরচেনা ব্যস্ততা শুধুই অতীত।

রাজধানীর উত্তরার শূটিং হাউজগুলো রয়েছে নীরব, নিস্তব্ধ। করোনার প্রভাব পড়েছে ঈদ নাটকে। তারকারা ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছেন একেবারে অলস ভঙ্গিতে। টেলিভিশন নাটকের নির্মাতারা জানান, একক, ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মার্কেটিং হয় ঈদ নাটকে। নাটক নির্মিত না হওয়ায় এবার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

চলমান লকডাউনে সরকারী ছুটির সঙ্গে গেলো ১৬ মার্চ থেকে সকল শূটিং বন্ধর সিদ্ধান্ত নেন নাটক সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে এই আন্তঃসাংগঠনিক সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ১২ মে গোপনে আদিবাসী মিজান নামক এক নাট্যপরিচালক অভিনেতা জাহিদ হাসানকে নিয়ে শূটিং করতে গিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন।

পরে আন্তঃসংগঠনের চাপে শূটিং বন্ধ হলেও অস্বস্তি দেখা দেয় অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিমের বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাট্যসংশ্লিষ্টরা। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন – আন্তঃসংগঠনের নীরব ভূমিকা নিয়েও। এসব ঘিরে তীর্যক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

শহীদুজ্জামান সেলিম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বিজ্ঞাপনের শূটিংয়ে অংশ নেয়ায় সংগঠনে মতবিরোধ দেখা দেয়। যার কারণে পদত্যাগ করেন টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর (টেলিপ্যাব) সভাপতি ইরেশ যাকের ও সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির। এর পরপরই অভিনয় শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টরস গিল্ডের বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করার গুঞ্জন ওঠে।

আন্তঃসংগঠনের বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের মধ্যেই তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ১৫ মে ডিরেক্টরস গিল্ডের জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত হয় – স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৭ মে থেকে নাটকের শূটিং করা যাবে। এরপর এ সিদ্ধান্তের পক্ষে – বিপক্ষে শুরু হয় যুক্তিতর্ক আর বিতর্ক। করোনাকালে শূটিং বন্ধ রাখার কথা জানান অনেক নির্মাতা। ফের ১৮ মে দিবাগত রাতে জরুরী সভা হয়। সভায় শূটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এরপর শূটিং বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় নাট্য নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড।

অবশেষে করোনার আগে যে কয়টি নাটক নির্মিত হয়েছে সেগুলোই এবারের ঈদের ভরসা। অভিনেতা ও নির্মাতা শামীম জামানের প্রতি বছর ঈদে বিশ থেকে পঁচিশটি নাটক থাকলেও এবারের ঈদে মাত্র চারটি নাটক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে শামীম জামান বলেন, প্রতিবছর ঈদে দর্শকদের কাছে ভিন্নভাবে হাজির হওয়ার চেষ্টা করি। প্রতিটি নাটকে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা থাকে। করোনার আগে চারটি নাটকের শূটিং করে রেখেছি সেগুলো নিয়েই এবারের ঈদ পার করতে হবে। নাটক চারটি হচ্ছে কন্ট্রাক্ট, বড় মিয়া ছোট মিয়া, এক পাতিলের সংসার, বাবার উপহার।

চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নেই পর্যাপ্ত নাটক। তাই অল্পসংখ্যক নাটক নিয়েই সবার সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এবারের ঈদের নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈদের ৫ম দিন রাত ৯ টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হবে সুব্রত সঞ্জীব এর রচনা ও পরিচালনায় স্বাদে আহ্লাদে, মাবরুর রশিদ বান্নার আই লাভ ইউ, ভিউ বাবা (মোশাররফ করিম, সারিকা সাবরিন, মুশফিক আর ফারহান, হুমায়ূন সাধু (এই নাটকটি সাধু অভিনীত সর্বশেষ নাটক), প্রপোজ, এঞ্জেলস, ভালবাসার গল্প (তাহসান খান, তাসনুভা তিশা)। মেহাদি হাসান মুকুলের অবশেষে প্রেম, ইমরুল রাফাতের ঈদ মোবারক, সোহেল আরমানের দোটানা (অপূর্ব – তানজিন তিশা), আসাদুজ্জামানের বৃষ্টি ধারা (অপূর্ব – জাকিয়া বারী মম), মিলন ভট্টাচার্যের জরুরী ডিভোর্স (জাহিদ হাসান – শবনাম ফারিয়া) উল্লেখযোগ্য। বেশিরভাগ নাটকের গল্প রোমান্টিক।

ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি ও অভিনেতা – নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ঈদকে ঘিরেই আমাদের সর্বোচ্চ কাজ হয়। ঈদে যে পরিমাণ কাজ হয় তার উপরই আমাদের সারা বছরের জীবন নির্ভর করে বলা চলে। তবে করোনার কারণে ইন্ড্রাস্টির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। ইরেশ যাকের বলেন, আমাদের ইন্ড্রাস্টি খুবই ছোট। করোনার প্রভাব সবার উপরই পড়েছে। এটি কাটিয়ে উঠা সম্ভব না। তবুও চেষ্টা করব কাটিয়ে ওঠার।

- Advertisment -

সর্বশেষ