Saturday, September 26, 2020
- Advertisement -
Home ভ্রমন জিন্দা পার্কের খাবারের খোঁজ-খবর

জিন্দা পার্কের খাবারের খোঁজ-খবর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত “জিন্দা পার্ক” এখন ঢাকাবাসীর কাছে খুব পরিচিত একটি নাম। ঢাকার মধ্যে সবুজের মাঝে প্রাণখুলে নিঃশ্বাস নেবার জায়গা বলতে গেলে নেই। ঢাকাবাসীর কাছে জিন্দা পার্ক তাই সবুজে ঘেরা এক টুকরো স্বর্গ। প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষ সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে।

এছাড়াও দেশের অন্যান্য জায়গা থেকেই মানুষ ঘুরতে যাচ্ছে সেখানে। সারাদিনের জন্য জিন্দা পার্ক যাবার কথা হয়তো ভাবছেন আপনিও। তাই আপনার জন্যই এই লেখাটি। চলুন, জেনে নেই জিন্দা পার্ক গিয়ে কী খাবেন।

জিন্দাপার্ক ঢোকার মুখেই গেটের কাছে আছে একটি টং দোকান। সেখানে চায়ের সাথে কেক, রুটি, কলা, বিস্কিট ইত্যাদি খেতে পারবেন। যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে এখান থেকে চা পান করে ভেতরে যেতে পারেন। উল্লেখ্য ভেতরে চা পানের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই চায়ের পিপাসা মেটাতে হবে সেখান থেকেই।

টংটিতে এলাকার বয়স্ক লোকজন থাকে সারাক্ষণই। তাদের সাথে কথা বলে আশপাশের ভাতের হোটেল সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পারেন। যদিও জিন্দা পার্কের সাথে কেবল একটিই ভাতের হোটেল আছে।

জিন্দা পার্কের খাবার; Source: তুখোড় সাংস্কৃতিক সংগঠন

এরপর গেটের মুখে আছে “মহুয়া স্টল।” যেখানে চকলেট, চিপস, চানাচুর, বিস্কিট থেকে শুরু করে কোক, ফান্টা, সেভেন আপ, আইসক্রিম সবই পাবেন। হালকা সব ধরনের খাবার পাওয়া যায় দোকানটিতে। এটা জিন্দা পার্কের কর্তৃপক্ষেরই দোকান।

উল্লেখ্য, এখানে সবকিছুরই দাম একটু বেশি রাখে। প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত মূল্যে সেখান থেকে কিছুই কিনতে পারবেন না। এখানে কফিও পাওয়া যায়। ক্লান্তি কাটাতে চাইলে কফি পান করে নিতে পারেন।

জিন্দা পার্কের ভেতরে খাবার জায়গা একটিই। যার নাম “মহুয়া রেস্তোরাঁ।” যেখানে আপনি দুপুরের খাবার খেতে পারবেন শুধু। এই হোটেলটিতে দুপুরের পর আপনি আর কোনো খাবার পাবেন না। আবার, অতিরিক্ত পরিমাণে রান্না করা হয় না বলে দুপুরে খাবার নাও পেতে পারেন। ওখানে খেতে চাইলে দুপুর ১টার মধ্যে খেয়ে নিবেন।

কপাল খারাপ হলে তারপর আর খাবার পাবেন না। তখন বের হয়ে এসে অন্যকোথাও খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বেশি মানুষজন গেলে জিন্দা পার্কের ওয়েবসাইট বা ফেইসবুক পেইজ থেকে তাদের যোগাযোগের নাম্বার নিয়েও জানিয়ে রাখতে পারেন আগে থেকে। তাহলে খাবার পেতে সুবিধা হবে।

কক মুরগির রোস্ট; Source: rupcare.com

মহুয়া রেস্তোরাঁয় খাবারের তালিকাতে আছে ভাত, পোলাও, ভর্তা, মুরগি, ডিম, সবজি, রোস্ট, গরু, বেগুন ভাজা, ডাল ইত্যাদি। এগুলোর বাইরে কোনো খাবার পাবেন না। আমি খেয়েছিলাম ভাত, আলু ভর্তা, রোস্ট, ডাল আর সালাদের একটি সেট মেন্যু।

খাবারের স্বাদ বেশ ভালোই। আলু ভর্তাটা খুব মজার ছিলো। আর রোস্টটা খেয়েও তৃপ্তি পাবেন। কক মুরগির রোস্ট করা হয় সেখানে। ডালের স্বাদ সাধারণই।

এছাড়া, বিভিন্ন দামের বিভিন্ন সেট মেন্যু আছে ওখানে। মোট ছয়টি সেট মেন্যু আছে। ভাতের সাথে যেমন খেতে পারবেন মুরগি বা গরু। আবার, পোলাওয়ের সাথেও খেতে পারবেন। চাইলে মাছ, ডিম, সবজির সেট মেন্যুও নিতে পারেন।

যেকোনো সেট মেন্যুতেই আপনাকে ভাত এবং ডাল দেয়া হবে বড় একটি পাত্র ভর্তি করে। ভাত, ডাল কোনো হিসেব ছাড়াই খেতে পারবেন।

আলু ভর্তা; Source: wikipedia.org

খাবারের ওই জায়গাটির অসুবিধা হলো সবগুলো পদ সবসময় পাওয়া যায় না। আবার তাদের নির্দিষ্ট পদগুলো ছাড়া আপনি পছন্দমতো কিছু খেতেও পারবেন না। তবে যা-ই খাবেন, রান্না মজাদার তাদের।

জিন্দা পার্কের নিজস্ব বাবুর্চির দ্বারা রান্না করানো হয় সব। খাবার জায়গাটির পাশেই রান্নাঘর। চাইলে ঢুঁ মেরে দেখেও নিতে পারেন। আমি রান্নাঘরের ভেতরে গিয়ে দেখে এসেছিলাম। রান্নাঘরটি খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

জিন্দা পার্কের ভেতরে খেতে হলে মহুয়া রেস্তোরাঁ ছাড়া বিকল্প নেই। ভাত বা পোলাও জাতীয় খাবার না খেতে চাইলে মহুয়া স্টোর থেকে শুকনো খাবারও কিনে খেতে পারেন। আরেকটি সুবিধা হলো, মহুয়া রেস্তোরাঁর খাবার শেষ হয়ে গেলে পাশের হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসতে পারবেন। আবার পার্কে প্রবেশ করতে কোনো প্রকার ফি দিতে হবে না। কর্তৃপক্ষই এই সুবিধাটি দিয়ে থাকে।

গরুর মাংস; Source: banglanew24.com

রেটিং

খাবারের স্বাদ ভালোই। সেই অনুযায়ী রেটিং ৭/১০ দেয়াই যায়।

মূল্য

দুপুরে একজনের খাবারের জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ২২০- ২৭০ টাকা। আর গরু মাংসের মেন্যু আছে যেগুলো সর্বমোট ৬/৭ জন খাওয়া যায়। ওভাবে নিলেও ২০০ টাকার উপরে খরচ পড়বে।
মহুয়া রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য তুলনামূলক বেশি। সাধারণত এই ধরনের খাবারের এতো দাম না হলেও, পার্কের ভেতর একটিই রেস্টুরেন্ট থাকায় আপনাকে বাধ্য হয়েই খেতে হবে। আবার, মহুয়া স্টোরটিতেও সব পণ্যের দামই বেশি রাখে।

পরিবেশ

সেভাবে বলতে গেলে একে রেস্তোরাঁও বলা চলে না। একটি ছাদের নিচে দু-তিনটি টেবিল পাতা। সেখানেই সিরিয়াল ধরে খাচ্ছে সবাই। তবে প্রকৃতি দেখতে যখন যাবেন, তখন গাছপালার ভেতরে বসে খেতে খারাপ লাগবে না।

খাওয়ার জায়গাটির একপাশে জঙ্গলের মতো জায়গা, আরেকপাশেই পুকুর। খেতে বসলেও আপনার প্রকৃতির মাঝে থাকার অনুভূতিটা রয়ে যাবে। আর জায়গাটি পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন। অপরিষ্কার বা নোংরা জাতীয় কোনো সমস্যা নেই।
আমি মাস দেড়েক আগে যখন গিয়েছিলাম, তখন ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করতে দেখে এসেছি। আরো চেয়ার, টেবিল বানানো হচ্ছে। হয়তো সাজানোও হবে নতুন ভাবে।

যেভাবে যাবেন

জিন্দা পার্ক যাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কুড়িল বিশ্ব রোড হয়ে যাওয়া। ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড চলে আসুন। সেখান থেকে বিআরটিসিতে করে যেতে পারেন কাঞ্চন ব্রিজ। আর ব্রিজ থেকে জিন্দা পার্ক। অটো রিকশা বা সিএনজি নিয়েও চলে যেতে পারেন। পূর্বাচল দিয়ে জিন্দা পার্কের ওদিকের লেগুনা দিয়েও যেতে পারেন।
এছাড়াও ঢাকা থেকে বাস যোগে কাঁচপুর ব্রিজ হয়ে ভূলতা গাওছিয়া হয়ে বাইপাস দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে জিন্দা পার্কে যাওয়া যায়। অথবা ঢাকা হতে টঙ্গী মিরের বাজার হয়ে বাইপাস রাস্তা দিয়ে জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়।

যদি জিন্দা পার্ক যাওয়ার পরিকল্পনা করেই ফেলেন তবে জানিয়ে রাখা ভালো, বাইরে থেকেও খাবার নিয়ে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে জনপ্রতি বাড়তি ২৫ টাকা দিলেই হবে। এছাড়াও পূর্বাচলের দিকে এসেও খেতে পারেন। জিন্দা পার্কের আশেপাশে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কেও খোঁজ নিয়ে যেতে পারেন।

 

- Advertisment -

সর্বশেষ

ঝকঝকে ইলিশের আড়ালে জমজমাট প্র’তারণা

0
প্রতিদিন রাজধানীর মতিঝিল এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক ও জীবন বীমা টাওয়ারের ফাঁকা গলিতে ১৮-২০টি দোকান নিয়ে বসে মাছের বাজার। ক্রেতাদেরকে ঝকঝকে-চকচকে দেখাতে বিকেলের আলোতেও মাছের...